তোমার হাতেই লিখবো আবার নতুন কোনো ইতিহাস।। নীলকণ্ঠ জয়

‘পদ্মা সেতু’, সারাবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন। এই আলোচনার মূল কারণ, দেশ বিদেশের নানান ষড়যন্ত্র আর প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যা কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা সম্বলিত সেতুটি ডানা মেলছে আজ। উন্নয়নের মহাকবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতু কেবল ইট, সিমেন্ট আর কংক্রিটের বোধহীন অবকাঠামো না, এই সেতু আমাদের অহংকার, গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় বলতে হয়, ‘পদ্মার ৪২ টি স্তম্ভ স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি! যারা বিরোধিতা করেছিলো তাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই, বরং আজ থেকে আমাদের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। সাহস জোগানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

পৃথিবীর সবচেয়ে খরস্রোতা নদী অ্যামাজনে কোনো সেতু নেই। বিশ্বের খরস্রোতা নদীগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে পদ্মা। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ নদীতে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু সড়ক, রেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ ঘটাবে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণের। আজ ২৫শে জুন সকাল ১০ টা থেকে উদ্বোধন হচ্ছে এই আইকনিক স্থাপনাটির আর যানবাহন চলাচল শুরু হবে ২৬শে জুন সকাল ৬টা থেকে। স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।

পদ্মা সেতু শুধু রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কানেক্টিভিটি বাড়াচ্ছে না, বিশ্ব যোগাযোগেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই সেতুর কল্যাণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সময় ও দূরত্ব কমবে। ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ের অংশ হবে পদ্মা সেতু। এশিয়ার সমৃদ্ধ দেশ সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান ঘুরে ইউরোপে যাবে ট্রেন। এমন সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

চীনা রাষ্ট্রদূতের কণ্ঠে প্রতিফলিত হয়েছে দেশবাসীর মনের কথা। সেতুটি দেশবাসীর কাছে সাহসের একটি প্রতীক। স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশ এমন সেতু নির্মাণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তার পরও বাংলাদেশের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রেখে তাদের স্বপ্ন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ সেতুটি শুধু বাস্তবায়নই হয়নি, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে এর শতভাগ নির্মিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, যদি সাহসের কোনো সীমা না থাকে, তবে আকাশ তার সীমা।

সেতুটি বাংলাদেশের জিডিপি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারে এবং বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে উপকৃত করতে পারে। সুতরাং আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে একজন বাঙালি হিসেবে বিশ্বাস রেখে বলতে চাই, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, তোমার হাতেই লিখবো আবার নতুন কোনো ইতিহাস।’

কবি নীলকন্ঠ জয়

সকল পোস্ট : নীলকন্ঠ জয়