বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা-পাওয়া না পাওয়ার খেরোখাতা।। নীলকণ্ঠ জয়

একজন বঙ্গবন্ধু পেয়েছিলাম বলেই আজ মাথা উঁচু করে বলতে পারি ‘আমরা স্বাধীন। চোখ নামিয়ে কথা বলো দুঃশাসন, এই জমিন আমার, এই মুক্ত আকাশের বাতাসের গভীর সমুদ্রে বুক ভাসিয়ে ভেসে বেড়াবো যেথায় খুশি।’ একজন বঙ্গবন্ধু পেয়েছিলাম বলেই বিশ্ব দরবারে আমাদের স্থান অনন্য।

পাওয়া না পাওয়ার খেরোখাতা লিপিবদ্ধ করার আগে কিছু কথা না বললেই নয়। ধরুন, জার্মানি স্বাধীন রাষ্ট্র অথবা বেলজিয়াম! কিংবা যদি বলি বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র জাপানের কথাই যদি বলি, তাহলে হৃদয় জানান দিবে আমাদের না পাওয়ার অনেক গল্প আছে! কিন্তু, আমরা মৌলিক চাহিদার বাইরে চিন্তা করলে বিষয়টি কিন্তু ভিন্ন। তখন আমাদের হৃদয় আলোড়িত হবে এবং না পাওয়ার বেদনা ভুলে সুখের হাসি হেসে বলতে পারবো, আমরা সত্যিই স্বাধীন।

একটু ভড়কে গেলেন তো? ভাবছেন, হিটলারের দেশ জার্মান কিংবা বেলজিয়াম অথবা জাপান কি তবে স্বাধীন রাষ্ট্র নয়? আমারও একই প্রশ্ন এবং উত্তর ‘হ্যাঁ’। কিন্তু কীভাবে? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রত্যাশা যা ছিলো, আমরা তার খুবই কম করতে পেরেছি। আমাদের মুদ্রাস্ফীতি আশংকাজনক না হলেও সাধারণের জন্য সুখকরও নয়, দ্রব্যমূল্যের দাম আমাদের নাগাল ছাড়িয়ে গেছে, রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা মধ্যসত্ত্বাভোগী সেজে ফায়দা লুটে যাচ্ছে, খুন, গুম, ধর্ষণ নিত্যকার ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিবাদ করার মতো সাহস হয় না কারোরই এবং এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র হতাশাজনকভাবে মনিটরিং করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য খুব দুঃসময়।

তবুও আমরা স্বাধীন। পৃথিবীর খাতা কলমে দুই শতাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো ভিন্ন রাষ্ট্রের কন্ট্রোলে না থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা মতো প্রকৃত স্বাধীন। এই পৃথিবীতে এরকম সত্যিকারের স্বাধীন রাষ্ট্র হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি। জাপান, জার্মান কিংবা বেলজিয়ামের মতো আমরা মার্কিনীদের হাতে জিম্মি নই। সিরিয়া কিংবা বেলারুশের মতো রাশিয়ার হাতে জিম্মি নই। তাইওয়ান কিংবা হংকং এর মতো চীনের হাতে জিম্মি নই। আমাদের দেশে ন্যাটো কিংবা চাইনিজদের ঘাটি গড়ার অনুমতি নেই, নেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে চরম দুর্বল সম্পর্ক। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে আমরা স্বাধীন হিসেবে খুব বেশি অসুখে নেই।

নাগরিক নির্বিশেষে বাক স্বাধীনতা, সুষম কর্ম এবং খাদ্য বন্টন, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করলে এই রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সফল হবে, এমনটি বলতেই পারি। এজন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে। আমরা চাই এই রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করুক, মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রতিটি মানুষের আসুক আর্থিক স্বাধীনতাও।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবসে আজ আগামীর সকল লেখক-পাঠককে জানাই শুভেচ্ছা এবং পাশে থাকার জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

-নির্বাহী সম্পাদক।

কবি নীলকন্ঠ জয়

সকল পোস্ট : নীলকন্ঠ জয়