বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস/অলোক আচার্য

স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থকেই বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু হয়েছিল। দেশর স্বাধীনতায় যারা বিভন্নভাবে উদ্বদ্ধ করেছিল তাদের শুরু থকেই হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে। ক্যাম্পে আটকে রেখে ভয়ংকর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষিত সচেতন বাঙালিকে বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। এর কারণ মূলত একটাই। ওরা জানতো যে এই যুদ্ধে যারা শক্তি যোগাবে, যারা যুদ্ধকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা সাজাবে তারা এই শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। একটি দেশ সঠিক পথ পরিচালনার জন্য এবং সফলতার জন্য শ্রম এবং বুদ্ধি দুই-ই প্রয়োজন হয়। একটি দেশ উন্নয়নে শিক্ষা, গবেষণা, সংজ্ঞিত,পরিল্পনাবিদ,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,চলচিত্র নির্মাতা প্রভতি ক্ষেত্রেই দরকার দক্ষ ও সৃজনশীল ব্যক্তির। যাদের হাতের ছায়ায় বদলে যায় সেদেশের সেই অঙ্গণ। বুদ্ধিজীবীরা হলেন মুক্তবুদ্ধির মানুষ যারা তাদের গবেষণা, চিন্তা-চেতনা দ্বারা সমাজের সমস্যাসমূহের সমাধান করেন। তাদের বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চায় জাতি উপকৃত হয়। পরাধীনতার শুরু থেকেই বুদ্ধিজীবীরা জাতিকে সঠিক পথ নির্দশনা দিয়েছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের শাষণ ও নিপীড়ন মানুষের সামনে এনেছিলেন। দুই পাকিস্তানের বৈষম্য সোচ্চার ছিলয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তারা সব সময় মানসিকভাবে শক্তি যুগিয়ে গেছেন। পরাজয়ের বার্তা যখন পাকিস্থান সেনাবাহিনী ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল তখন তারা একটি স্বাধীন দেশকে পিছিয়ে দিতে দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যার ষড়যন্ত্র কড়ে। মূলত যখন তারা দেখলো সার্বিক পরিস্থিতি তাদের প্রতিকুল এবং বাংলাদশের স্বাধীনতা কোনভাবেই রোধ করা যাবে না, পাকিস্থানের তৎকালীন মিত্র রাষ্ট্রগুলোও যখন পাকিস্থানকে আর সাহায্য করতে পারছিল না তখনই তারা ঘৃণ্য এক ষড়যন্ত্র করে।তারা দেশের খ্যাতনামা মানুষদের তালিকা তৈরি করে হত্যা করতে আরম্ভ কতে। এর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল স্বাধীন দেশ মাথা তুলে দাড়াতে গেলে এইসব বুদ্ধিজীবিদের পরামর্শ এবং দিক নির্দেশনা একান্তভাবে প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের অগ্রগতিটা যখন শ্লথ হয় সে ব্যবস্থা তারা করতে চেয়েছিল। তারা নির্মমভাবে বেছে বেছে মেধাবী মানুষগুলাকে হত্যা করে। এই লিস্টে তৈরিতে পাকিস্থান বাহিনীকে সাহায্য করেছিল এদেশের রাজাকাররা। স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম কারিগর বুদ্ধিজীবিরা। তাদর চিন্তা-চেতনা সামনে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বুদ্ধিজীবি হত্যার কারণে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা আজও বহন করে চলেছে বাংলাদেশ। বুদ্ধিজীবীরা এদেশের সূর্যসন্তান। তাদের ক্ষতি অপরিমেয়। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম গ্রহণ করাটা যে কতটা আনন্দের তা কেবল স্বাধীন দেশ জন্ম নেওয়া, বড় হয়ে ওঠা একটি শিশুই বলতে পারবে।বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে দেশটাকে সাময়িকভাবে অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করতে পারলেও বাস্তবিক পক্ষে আমরা আজ বহুদুর এগিয়েছি।দেশের এই সূর্য সন্তানদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

কবি অলোক আচার্য

সকল পোস্ট : অলোক আচার্য