পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ll মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

চট্টগ্রাম শহরে ঘুরতে গিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত না দেখলে পুরো ভ্রমণটাই বৃথা।  ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হওয়া কর্ণফুলী নদী, পার্বত্য  চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। এ নদীর মোহনায় বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ‘চট্টগ্রাম বন্দর। ঊৎস হতে এ নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার হলেও কাপ্তাই বাঁধ  থেকে মোহনা পর্যন্ত সাড়ে ৮৮ কিলোমিটার।

চট্টগ্রাম শহরের জিরো কিলোমিটার থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে পতেঙ্গার অবস্থিত। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে এর প্রচুর ক্ষতি হয়। বর্তমানে পাথরের বাধ দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণ করায় সৈকতের সৌর্ন্দয অনেক বেড়েছে। জোয়ারের সময় এর ঢেউয়ের আচড় নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে। সৈকতে আছে বার্মিজ মার্কেট। সেখানেও ঘুরেফিরে পছন্দসই  কেনাকাটা করা যায়। পতেঙ্গা বীচে সন্ধ্যার দিকে সূর্যাস্তের দৃশ্যে মনকে বেশ পুলকিত করবে। এখানে সমুদ্রে সাতাঁর কাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। একটা সময় এই সমুদ্র সৈকতে যাবার রাস্তাটি খুব উন্নত ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে এখানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়াতে কর্তৃপক্ষ রাস্তাটিকে সংস্কার করে ঝকঝকে করে তুলেছে। এছাড়া জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্র সৈকতের সাথেই ঝাউবনের ছায়াতলে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকানসহ অনেক দোকান-পাটও রয়েছে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এর ছবির ফলাফলএছাড়া রয়েছে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর জন্য স্পীড-বোট, সমুদ্র তীরেই ঘুড়ে বেরানোর জন্য সী-বাইক এবং ঘোড়া পাওয়া যায়। এজন্য অবশ্য আপনাকে নির্দিষ্ট ভাড়া গুণতে হবে ঘণ্টাপ্রতি হিসেবে। ঝাউবন ঘেঁষে উত্তর দিক বরাবর হেঁটে গেলে দেখতে পাবেন বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলি নদীর মোহনা।

ছোট্ট করে জেনে নিন কর্ণফুলীর নাম করণের কাহিনী। প্রচলিত আছে তা হল : আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক আদিবাসী রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জোছনা রাতে তারা দু’জন নৌ-ভ্রমণে বেড় হন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানের ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা এটি উদ্ধারে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান। তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এ করুণ কাহিনী থেকে নদীটির নাম  নামকরণ হয় কর্ণফুলী।

পতেঙ্গা কিভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত যেতে হলে আগে আপনাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। কমলাপুর টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি করে আর সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাস করে আপনি চট্টগ্রাম যেতে পারেন। এসি বাস ভাড়া ৮0০-১3০০ টাকা। আর এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের সাধারণ বাসে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা।

ট্রেনে বা রেলপথে চট্টগ্রাম

ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রামের রুটে মহানগর প্রভাতী ঢাকা ছাড়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, মহানগর গোধূলি ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৩টায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ে বিকেল 3 টা ২০ মিনিটে, তূর্ণা ঢাকা ছাড়ে রাত ১১টায়, সোনার বাংলা ছাড়ে সকাল ৭ টায়। ভাড়া ১৬০ থেকে ১2০০ টাকা।

বমিানে বা আকাশপথে  বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, রিজেন্ট , ইউ এস বাংলা এয়ারলাইনস প্রভুতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এর ছবির ফলাফলচট্টগ্রাম থেকে পতেঙ্গা

চট্টগ্রাম থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিনে। চট্টগ্রাম শহর থেকে অটো রিক্সায় করে যেতে সময় লাগে ঘণ্টা খানিক । ভাড়া নিবে ২৫০-350 টাকার মত । আর বাসে যেতে চাইলে তো কথাই নাই , বহদ্দার হাট, লালখান বাজার মোড়, জিইসি মোড় , নিউ মার্কেট , চক বাজার মোড় থেকে সরাসরি বাস পাবেন। বাসের গায়ে লেখা দেখবেন ” সী বীচ” লেখা আছে।

কোথায় থাকবেন

সৈকতের কাছেই থাকার জন্য মনোরম জায়গা বাটারফ্লাই পার্ক রেস্ট হাউস। ভাড়া চার হাজার থেকে সাত হাজার টাকা।  তবে চট্টগ্রামের কোনো হোটেল থেকেও আসা যায়। এছাড়া চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে। নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো। এগুলোই সবই মান সম্পন্ন কিন্তু কম বাজেটের হোটেল।

১. হোটেল প্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : নুতন ট্রেন স্টেশনের ঠিক বিপরীতে। আমার মতে বাজেটে সেরা হোটেল এটি। সুন্দর লোকেশন, প্রশস্ত করিডোর (এত বড় কড়িডোর ফাইভ স্টার হোটেলেও থাকেনা)। রুমগুলোও ভালো। ভাড়া নান এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা।

২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম : এটাও অনেক সুন্দর হোটেল। ছিমছাম, পরিছন্ন্ হোটেল। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা।

৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টড়্রাম : একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল। ছাদের ওপর একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। রাতের বেলা সেখানে বসলে আসতে ইচ্ছে করবেনা। ভাড়া : 10০০ টাকা থেকে শুরু। এসি 20০০ টাকা।

৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও,আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। একটু বেশী ভাড়ার হোটেল। তবে যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ। ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং

৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম : আগ্রাবাদে থাকার জন্য ভালো হোটেল। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।