স্পট লাইট

‘রবিবার’ বিজনে পড়ে রইল, ছুটি নিলেন বুদ্ধদেব গুহ/দেবশ্রী মজুমদার-শান্তিনিকেতন

রবিবার আছে, মানুষটার অবসর আর নেই! নিজের নাম দেওয়া রবিবার বাড়িটির মালিক বুদ্ধদেব গুহ সোমবারে কার্যত রবিবারের ছুটি নিয়ে পাকাপাকিভাবে…

বিস্তারিত পড়ুন

যেভাবে লেখা হয়েছিল বিদ্রোহী কবিতাটি

‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’ বইয়ে মুজফফর আহমদ লিখেছেন, ”তখন নজরুল আর আমি নীচের তলার পূব দিকের, অর্থাৎ বাড়ীর নিচেকার দক্ষিণ-পূর্ব কোনের ঘরটি নিয়ে থাকি। এই ঘরেই কাজী নজরুল ইসলাম তার ”বিদ্রোহী” কবিতাটি লিখেছিল। সে কবিতাটি লিখেছিল রাত্রিতে। রাত্রির কোন সময়ে তা আমি জানিনে। রাত দশটার পরে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে এসে আমি বসেছি এমন সময় নজরুল বলল, সে একটি কবিতা লিখেছে।”

”পুরো কবিতাটি সে তখন আমায় পড়ে শোনাল। ”বিদ্রোহী” কবিতার আমিই প্রথম শ্রোতা।”

‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’ বইয়ে মুজফফর আহমদ এরপর বর্ণনা দিয়েছেন, যেহেতু তিনি সামনাসামনি কারো প্রশংসা করতে পারেন না, তাই কবিতা শোনার পরেও তিনি উচ্ছ্বসিত হতে পারেননি। তাতে মনে মনে কাজী নজরুল ইসলাম আহত হয়েছিলেন বলেও তার মনে হয়েছে।

”আমার মনে হয়, নজরুল শেষ রাত্রে কবিতাটি লিখেছিল, তা না হলে এত সকালে সে আমায় কবিতা পড়ে শোনাতে পারত না।….এখন থেকে চুয়াল্লিশ বছর আগে নজরুলের কিংবা আমার ফাউন্টেন পেন ছিল না। দোয়াতে বারে বারে কলম ডোবাতে গিয়ে তার মাথার সঙ্গে তাল রাখতে পারবে না, এই ভেবেই সম্ভবত সে কবিতাটি প্রথমে পেন্সিলে লিখেছিল।” লিখেছেন মি. আহমদ।

সেদিন বেলা হওয়ার পর ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার আফজালুল হক সেই বাড়িতে আসেন। তাকেও কবিতাটি পড়ে শোনান কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সেটা শুনে একটি কপি সঙ্গে নিয়ে যান।

মুজফফর আহমদ লিখেছেন, ”আমিও বাইরে চলে যাই। তারপরে বাড়িতে ফিরে আসি বারোটার কিছু আগে। আসা মাত্রই নজরুল আমায় জানাল যে, ‘অবিনাশদা (বারীন ঘোষেদের বোমার মামলার সহবন্দী শ্রীঅবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য) এসেছিলেন। তিনি কবিতাটি শুনে বললেন, তুমি পাগল হয়েছ নজরুল, আফজালের কাগজ কখন বার হবে তার স্থিরতা নেই, কপি করে দাও, বিজলীতে ছেপে দেই আগে। তাকেও নজরুল সেই পেন্সিলের লেখা হতেই কবিতাটি কপি করে দিয়েছিল।”

বিদ্রোহী কবিতাটি ১৩৯-পঙক্তির।

১৯২২ সালের ৬ই জানুয়ারি শুক্রবার সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রথম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ছাপা হয়। বৃষ্টি হওয়ার পরেও কাগজের চাহিদা এতো হয়েছিল যে, সেই সপ্তাহে ওই কাগজটি দুইবার মুদ্রণ করতে হয়েছিল।

তার ধারণা, মোসলেম ভারতের কার্তিক সংখ্যায় পরবর্তীতে সেটা ছাপা হলেও সেই সংখ্যাটি বের হয়েছিল ফাল্গুন মাসে।

মুজফফর আহমদ লিখেছেন, ”বিদ্রোহী ছাপা হওয়ার পরে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের সাক্ষাৎকারের কথাও শ্রী অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য লিখেছেন এবং নজরুলের মুখে শুনেই লিখেছেন। তাতে আছে, কবিতাটি রবীন্দ্রনাথকে পড়ে শোনানোর পরে তিনি নজরুলকে বুকে চেপে ধরেছিলেন।”

১৯২১ সালের ডিসেম্বর, ক্রিসমাসের রাত। কলকাতার ৩/৪সি, তালতলা লেনের একটি বাড়িতে বসে কাঠ পেন্সিলে এই কালজয়ী কবিতা লিখতে শুরু করেন সদ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধফেরত বাইশ বছরের যুবক কাজী নজরুল ইসলাম।

কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার একশো বছর পূর্ণ হবে এইবছর ডিসেম্বর মাসে।

সংক্ষেপিত:
মূল প্রবন্ধ সায়েদুল ইসলাম রচিত। বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত।

১৫ আগস্ট ভয়ঙ্কর সেই রাতের কথা/সুপ্রিয়া বিশ্বাস

অন্য দিনের মত সেদিনও রাত ৮টার দিকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি জানতেন না, সেনাবাহিনীর…

বিস্তারিত পড়ুন

জাপানের উন্নয়নে শিক্ষার যে ভূমিকা বাংলাদেশেও তা হবে না কেন? /আলমগীর খান

সর্বজনীন মানসম্মত শিক্ষাকে জাপান উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করেছে এবং জাতীয় জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। এ দিক থেকে…

বিস্তারিত পড়ুন

ওয়াইজঘাটের সেকাল একাল/আ‌নোয়ার ফরিদী

বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ওপারে যাওয়ার একটি ঘাটের নাম ওয়াইজঘাট। ঐতিহাসিকরা বলেন– ব্রিটিশ নীলকর জমিদার জেমস ওয়াইজ-এর নামেই এই নামকরণ। সেই…

বিস্তারিত পড়ুন

আব্বাস উদ্দীনের অনুরোধে নজরুলের প্রথম ইসলামী গান

শ্যামা সঙ্গীতের রেকর্ডিং শেষে কাজী নজরুল ইসলাম বাড়ি ফিরছেন। যাত্রাপথে তাঁর পথ আগলে ধরেন সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীন। একটা আবদার…

বিস্তারিত পড়ুন

কোভিড ১৯ পরিস্থিতি এবং আমরা/মোস্তফা মাসুম তৌফিক

সারা বিশ্বে যখন ভয়ংকর করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এলো তখন বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল। আমরা বিগত শীতে সামান্য চিন্তিত…

বিস্তারিত পড়ুন

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে

ইংরেজিতে স্বাস্থ্য নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। স্বাস্থ্যই সম্পদ। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল। সুস্থ দেহের সাথে সুস্থ মনের যোগসূত্র রয়েছে।…

বিস্তারিত পড়ুন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জাবি ছাত্রলীগ নেতা এম মাইনুল ইসলামের দুটি বই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪১ ব্যাচের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল ইসলাম রাজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু…

বিস্তারিত পড়ুন